কারাগারের রাতদিন pdf ডাউনলোড

কারাগারের রাতদিন pdf download, জয়নাব আল গাজালী বই pdf download, karagare ratdin pdf download
কারাগারের রাতদিন pdf download, জয়নাব আল গাজালী বই pdf download, karagare ratdin pdf download


একটু পড়ুন: আনুগত্যের শপথ

যেমন আগে বলেছি, ইখওয়ানুল মুসলিমুনের সাথে আমার সম্পর্ক যেমনি গভীর তেমনি পুরনো। অথচ সরকারি কর্মকতারা ভেবেছিল, ইখওয়ানের সাথে আমার সম্পর্ক হতে যাচ্ছে সবেমাত্র। বস্তুত ১৯৩৭ থেকেই আমি ইখওয়ানের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় তেরশো আটান্ন হিজরীতে। এর মাস ছয়ে পরে একদিন ইমাম হাসানুল বান্নার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ইখওয়ানের সদর দফতরে মহিলাদের জন্যে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতা দানের পরপরই ইমাম বান্না আমাকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন। তিনি তখন ইখওয়ানের মহিলা বিভাগ কায়েম করতে চাচ্ছিলেন। আলোচনাকালে তিনি সার্বিক পর্যায়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

তার প্রায় প্রতিটি প্রস্ত বি এবং মতামতের সাথে আমি একমত পোষণ করি। অবশেষে তিনি আমাকে ইখওয়ানের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বস্তুত এ মহিলা দলই ছিল ইখওয়ানেরই একটি শাখা । আমি ইমাম বান্নার প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্যে আমার দলীয় নেত্রীদের সাথে আলোচনা করি। তারা প্রত্যেকেই বৃহত্তর পর্যায়ে উভয় দলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার প্রস্তাব মেনে নেন; কিন্তু ইখওয়ানের একটি অঙ্গ শাখার সভানেত্রী হিসেবে আমার ইখওয়ানে অন্ত ভুক্তির প্রস্তাব নাকচ করে দেন। অবশ্য, এরপরেও নিয়মিত আমাদের দেখা সাক্ষাৎ এবং আলাপ আলোচনা চলতে থাকে। 


আমাদের প্রত্যেকেই ইমাম হাসানুল বান্নার মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতো এবং ইমামকে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করতো, ভালবাসতো। শেষ পর্যন্ত আমরা পৃথক দল হিসেবেই থেকে গেলাম। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক দিন দিন মজবুততর হতে থাকলো । আমি সংস্থার কেন্দ্রীয় দফতরে আয়োজিত শেষ বৈঠকে ইমাম বান্নার কাছে এ শপথ করি যে আমার দল আলাদা অস্তিত্ব রাখা সত্ত্বেও ইখওয়ানের প্রতিটি ডাকে সাড়া দেবে এবং একই উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে।

কিন্তু এতে ইমাম বান্না পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি চেয়েছিলেন,

আমি যেন ইখওয়ানের মহিলা শাখার নেতৃত্বের জন্যে আত্মনিয়োগ করি । যাই হোক, এর পরবর্তী অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৪৮ সালে দুর্ঘটনার পর হঠাৎ ইখওয়ানুল মুসলিমুনকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং ইখওয়ানের সব তহবিল বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইখওয়ানের সব দফতর তালাবদ্ধ করা হয় এবং বেপরোয়াভাবে ইখওয়ান নেতা ও কর্মীদের গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয়। এ অপ্রত্যাশিত এবং আকস্মিক সংকটের সময় ইসলামী আন্দোলনের মহিলা কর্মীরা অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ এবং নির্ভীক ভূমিকা পালন করে। আমি আমার ভাবী ও চাচাতো বোন তাহিয়া জুবিলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করি এবং শিগগিরই অনুভব করি যে, আমাকে ইমাম বান্নার প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে মেনে নেয়া উচিত ছিল। ইমামের প্রস্তাব মেনে নেইনি বলে আমি অনুতাপ বোধ করলাম ।


ইখওয়ানকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরবর্তী দিনই আমি দলের কেন্দ্রীয় দফতরে আমার নির্দিষ্ট কক্ষে উপস্থিত হই। এ সেই কক্ষ, যেখানে ইমাম বান্নার সাথে আমার আলাপ হয়েছিল। আমি তখনো কক্ষে শ্রদ্ধেয় বান্নার মহান অস্তিত্ব অনুভব করছি যেন! দুঃখে অনুশোচনায় আমার অন্তর জ্বলছিল তখন । দু'চোখ বেয়ে দরদর করে গড়িয়ে পড়ছিল তপ্ত অশ্রুধারা। আমি স্বগতোক্তি করে বলে যাচ্ছিলাম, ইমাম বান্না যথার্থই সত্যনির্ভর ছিলেন। ইমামের অনুসরণ করে সত্যের পথে জিহাদী ঝান্ডা উড়িয়ে এগিয়ে চলা প্রতিটি মুসলমানদের কর্তব্য । মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে ইমাম যে পথে ডাক দিয়েছেন, তাছাড়া মুক্তি ও শান্তির বিকল্প কোন পথ নেই। হাসানুল বান্নার মতো বিজ্ঞ, দূরদর্শী এবং নির্ভীক নেতৃত্বই মুসলিম মিল্লাতকে তার মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছাতে সক্ষম।

পরমুহূর্তেই আমি আামর প্রাইভেট সেক্রেটারিকে পাঠাই ভাই আব্দুল হাফিজ আসাইফিকে ডেকে আনতে। এর মাধ্যমেই আমি ইমাম বান্নার সাথে অলিখিত তথ্যাদি আদান প্রদান করতাম। আমি তাঁর মাধ্যমে ইমামকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক আলোচনায় মিলিত হবার কথা স্মরণ করিয়ে দেই। ভাই আব্দুল আজিজ যখন ইমামকে সংবাদ পাঠিয়ে তাঁর সম্মতি নিয়ে ফিরে এলো, তখন আমি আমার ভাই মুহাম্মদ আল গাজালী এবং তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে ইমাম বান্নার কাছে নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠাই : মুহতারাম ইমাম হাসানুল বান্না

আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইসলামের খেদমতের জন্যে আমি জীবনের অন্যান্য সব তৎপরতা বর্জন করে আপনার সম্মুখে উপস্থিত হবার জন্যে উদগ্রীব। আপনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব, যার পথ নির্দেশ এবং পৃষ্ঠপোষকতা আমার একান্ত কাম্য। আল্লাহ্ দ্বীনের সেবার জন্যে আপনি আমাকে যে নির্দেশ দেবেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই হবে আমার জীবনের মহত্তম ব্রত! মুহতারাম ইমাম! আপনার নির্দেশের অধীর অপেক্ষায়- আল্লাহর দাসী। জয়নব আল-গাজালী।


এরপর ইমাম বান্নার সাথে অবিলম্বে সাক্ষাৎ করার জন্যে উপযুক্ত স্থান হিসেবে মুসলিম যুব সংস্থার কেন্দ্রীয় দফতর নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্যে কোন সময় বা তারিখ নির্ধারিত করা হয়নি । সুযোগ মত আকস্মিক সাক্ষাতেরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একদিন আমি মুসলিম যুব সংস্থার কেন্দ্রীয় দফতরে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তৃতা করার জন্য যাচ্ছিলাম, হঠাৎ সিঁড়ির গোড়াতেই মহামান্য ইমামকে আমি দেখতে পাই । তার এ সাধারণ ও অনাড়ম্বর উপস্থিতিতে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হই এবং ভাবাবেগ ও আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়ি। আমি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসার আগেই সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে উঠতেই মুহতারাম ইমাম বান্নার সাথে আলাপ শুরু করি

সর্বপ্রথম আমি তাকে বললাম, শ্রদ্ধেয় ইমাম! আমার মুর্শেদ। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা এবং ইসলামী সরকার কায়েমের উদ্দেশ্যে আপনি যে মহতী প্রয়াস চালাচ্ছেন, আমি তার সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এ পথে যে কোন ত্যাগ তিতিক্ষা এমনকি প্রাণ দিতেও দ্বিধা করবো না। আমি সর্বান্তকরণে আপনার আদেশ নিষেধ মেনে চলার প্রতিজ্ঞা করছি ।


ইমাম আমার কথায় এবং প্রতিজ্ঞায় অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন । তিনি বলেন, ইসলামী মহিলা সংস্থা আপাতত যেভাবে কাজ করছে, সেভাবেই

করতে থাকুক । আমার এবং ইমাম বান্নার সাথে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয় আমার ভাইকে । ইমাম বান্না নুহাস এবং ইখওয়ানের মধ্যে মধ্যস্থতা রক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন আমার ওপর। তখন রাফয়াত, মুস্তফা পাশা আন নুহাস দেশের বাইরে ছিলেন। এঁরা মরহুম আমীন খলিলীকে বিভ্রান্তি দূরীকরণ অভিযানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ ব্যাপারে ইমাম বান্নাও একমত ছিলেন । আমাকেও যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয় ।


১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক রাতে জনাব আমীন খলিলী আমার কাছে আসেন । তাঁর চোখে মুখে উৎকণ্ঠার ছাপ ছিল স্পষ্ট। তিনি বললেন, কর্তৃপক্ষ ইমাম বান্নাকে হত্যার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তাঁকে শিগগিরই কায়রো থেকে বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।

কিন্তু আমার ভাইকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইমামের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম কেউ ছিল না। ফলে আমি নিজেই ইমামের সাথে দেখা করার জন্যে রওয়ানা হই। কিন্তু দূর্ভাগ্য! আমার, আমার জাতির এবং গোটা বিশ্বমানবতার দুর্ভাগ্য যে, আমি অর্ধপথেই মুহতারাম ইমামের মর্মান্তিক শাহাদাতের সংবাদ পাই। শতাব্দির মহান বিপ্লবী নায়ককে মানবতার শত্রুরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডে গোটা জাতি ক্ষোভে দুঃখে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। হস্তাদের প্রতি সর্বত্র তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হয় । আমি প্রকাশ্যভাবে সরকারের এ বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও আন্তরিক ক্ষোভ প্রকাশ করি। এরপর দেশে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় এবং নতুন সরকার অবিলম্বে ইসলামী মহিলা সংস্থাকে বেআইনী ঘোষণা করে ।

আমি সরকারের ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করি। ১৯৫০ সালে জনাব হুসাইন সিরয়ী পাশার আমলে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন এবং ইসলামী মহিলা সংস্থার তৎপরতা আবার পুরোদমে শুরু হয়ে যায়। এ ঐতিহাসিক মামলায় আমাদের পক্ষের কৌশুলী ছিলেন প্রখ্যাত আইনবিদ জনাব আব্দুল ফাত্তাহ হাসান পাশা ।


এরপর ওয়াফদ পার্টির সরকার গঠিত হয় এবং জনাব ইমাম হাসান হুজায়বীর নেতৃত্বে ইখওয়ানুল মুসলিমুন আবার কর্মতৎপরতা শুরু করে। ইখওয়ানুল মুসলিমুনের কেন্দ্রীয় দফতর উদ্বোধনের প্রথম দিনেই আমি প্রকাশ্যভাবে ইখওয়ানের সাথে আমার সার্বিক সম্পর্কের কথা ঘোষণা করি, এবং মুর্শিদে 'আম' জনাব হুজায়বীর ব্যক্তিগত দফতর হিসেবে ব্যবহারের জন্যে আমার বাড়ির সবচেয়ে বড় এবং সুসজ্জিত হল ঘরটি উৎসর্গ করি । 

ইখওয়ানের ভাই আব্দুল কাদের আওদাহ এ জন্যে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে আমাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ইখওয়ানুল মুসলিমুনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত আপনার প্রকাশ্য ঘোষণা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং আমাদের জন্যে অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার। বস্তুত এটাকে আমাদের বড় সৌভাগ্যই বলতে হবে।

আমি বিনয়ের সাথে বললাম, যা হয়েছে তার জন্যে আল্লাহ্র অশেষ শুকরিয়া। বলা বাহুল্য, ইখওয়ানের সাথে অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই জেনারেল নজীবের নেতৃত্বে সামরিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। বিপ্লবের কয়েকদিন আগে আমীর আবদুল্লাহ ফয়সলসহ জেনারেল নজীব আমার সাথে দেখা করেন। এ বিপ্লবের প্রতি ইখওয়ান এবং মহিলা সংস্থার কিছুটা সহানুভূতি ছিল ।

কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিপ্লবী সরকারের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা এবং কাজকর্মের মধ্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। এ ব্যাপারে ইখওয়ান নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় আমি আমার মতামত প্রকাশ করি । পরে যখন নজীব সরকার ইখওয়ানের কয়েকজন সদস্যকে মন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় অংশগ্রহণের প্রস্তাব করেন, তখন আমি আমার পত্রিকার মাধ্যমে এই বলে প্রস্তাবের বিরোধিতা করি, যেহেতু বিপ্লবী সরকার আন্তরিকতার সাথে ইসলামী জীবনাদর্শে অনুসারি নন বলে প্রকাশ পাচ্ছে সুতরাং উখওয়ানের কোন ব্যক্তিই এ ধরনের সরকারের সাথে মৈত্রী স্থাপন বা তার অধীনে দায়িত্ব পালনের কথা ভাবতেও পারে না । যদি কোন ব্যক্তি তা করে তাহলে তাকে ইখওয়ান থেকে বহিষ্কার করা উচিত। বস্তুত বিপ্লবী সরকারের আসল উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইখওয়ানকে তার ভূমিকা ও নীতির উপর অটল থাকতে হবে ।


পত্রিকায় আমার বক্তব্য প্রকাশের পর জনাব আব্দুল কাদের আওদাহ্ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আপাতত এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ মুলতবী রাখার অনুরোধ করেন। এর পরবর্তী দু'সংখ্যায় আমি এ ব্যাপারে কিছুই লিখিনি । কিন্তু পরে আবার লিখতে শুরু করি। এবার জনাব আব্দুল কাদের আওদাহ্ জনাব হুজায়বীর নির্দেশপত্র নিয়ে আসেন। তাতে তিনি এ ব্যাপারে কিছু লিখতে নিষেধ করেন। বলাবাহুল্য, আমি এ নির্দেশ মেনে নেই। নেতার নির্দেশ অমান্য করা সম্ভব ছিল না। এ সময় সব ব্যাপারেই আমি ইমাম হুজায়বীর আদেশ নিষেধ মোতাবেকই কাজ করি। এমনকি তাঁর অনুমতিতেই আমি শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি ।

মুখোস উম্মোচিত

সময় তার নির্ধারিত গতিতে কালের প্রেক্ষাপট অতিক্রম করছিল। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ভয়াবহ ঘটনাবলী দেশের ভাগ্যাকাশকে মেঘাচ্ছন্ন করে তোলে । জামাল আব্দুন নাসের তার মুখোস খুলে ফেলে তার আসল পৈশাচিক রূপে ধরা দেয়। সে প্রকাশ্যভাবে ইসলামের বিরোধীতা শুরু করে এবং ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার অঙ্গীকার করে। এক্ষেত্রে বিদেশী শক্তিবর্গ এবং তাদের দেশীয় চরেরা তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয় । নাসের কাল বিলম্ব না করে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়ার জঘন্য হুকুম জারি করে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বীর জনাব আব্দুল কাদের আওদাহ এবং শেখ মোহাম্মদ ফরগালীর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নেতাদের শুধু এ জন্যেই ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। কারণ, তারা দেশের সার্বিক উন্নতি এবং জনগণকে মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্যে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের দাবি তুলেছিলেন । নাসের ইমাম হুজায়বীর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় বৃদ্ধ নেতাকে ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়ার হুকুম দেয়। কিন্তু আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ডাক্তাররা তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলানোর অযোগ্য ঘোষণা করে । তারা এও বলে যে, এ বুড়ো এমনিতেই কয়েক ঘন্টার বেশি বাঁচবে না। সুতরাং ফাঁসিতে ঝুলানো দরকার হবে না। একই কথা ভেবে জামাল নাসের জনাব হুজায়বীর ফাঁসির দন্ড মওকুফ করে।


কিন্তু রাখে আল্লাহ্ মারে কে? ইমাম হুজায়বী অচিরেই সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং নাসেরের জুলুম নির্যাতন এবং রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দ্বিগুণ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে থাকেন। তাঁর নির্ভীক পদক্ষেপ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠলে সরকার ক্রদ্ধ হয়ে তাকে গ্রেফতার করে এবং সামরিক কারাগারে নিক্ষেপ করে। সেখানে তাঁর উপর যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়, তাতে অতি পাষণ্ডের চোখও অশ্রু ছলছল হতে বাধ্য। কিন্তু ইমাম হুজায়বী অতি ধৈর্য ও সহনশীলতার মূর্ত প্রতীক হয়ে সব অত্যাচার সহ্য করেন। শেষ পর্যন্ত এ বৃদ্ধ নেতার চোখের সামনেই নাসের এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের মৃত্যু ও পতন ঘটে। 


প্রেসিডেন্ট নাসেরের স্বৈরাচারী আমলে অবর্ণনীয় অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই যখন আপাতত চপচাপ নিষ্ক্রিয়তা অবলম্বনের অনুমতি চেয়ে ইমাম হুজায়বীর কাছে আসেন, তখন বৃদ্ধ ইমাম হুজায়বী একজন নবীন বিপ্লবীর মতো উদ্দীপনা প্রকাশ করে বলেন, তোমরা কারা সক্রিয় থাকতে চাও বা কারা নিষ্ক্রিয়তা অবলম্বন করতে চাও, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ আমার নেই। তবে একটা কথা তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ইতিহাস খুলে দেখ, বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে যারা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়িয়েছে, তারা কোন দিনই ইসলামী আন্দোলনের সেবা করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলনে ভীরু কাপুরুষ এবং সুযোগ সন্ধানীদের কোন স্থান নেই । এসব কথা বলেছেন, তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করার সময়; তখন তাঁর বয়স আশি বছর । কুখ্যাত নাসেরের মৃত্যুর পর তিনি সবার পরে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন ।

FAQ
বই: কারাগারের রাতদিন
লেখক : জয়নাব আল গাজালী
প্রকাশনী : প্রফেসর’স বুক কর্ণার
বিষয় : মহীয়সী নারী জীবনী

কারাগারের রাতদিন pdf download করতে নিচে ডাউনলোড বাটন ক্লিক করুন।

Post a Comment

স্প্যাম কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন! ধন্যবাদ, পিডিএফ বই ডাউনলোড সমস্যা হচ্ছে? এখানে দেখুন>যেভাবে PDF ডাউনলোড করবেন?

Previous Next

نموذج الاتصال